সীমান্তে দাঁড়ায়ে রয়েছে দেখ কারা...


                                                  সীমান্তে দাঁড়ায়ে রয়েছে দেখ কারা...
কথায়ে আছে যে সংসার মায়ার যায়গা। আমরা যেন এক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ। এই মায়াটাই যেন আমাদের ধরে বেঁধে রেখেছে। জন্ম থেকে মৃত্যুর মুহূর্ত অবধি এক চক্রাকার, ঘূর্ণায়মান জীবন প্রবাহ। এই পৃথিবীতে জন্মানোটাই একটি মায়া। তারপর ক্রমশ বড় হয়ে বেড়ে ওঠা। ছাত্র জীবন শুরু হয়ে স্কুলের বন্ধুদের সাথে। খেলাধুলা, হাসি, গান ,গল্প, আড্ডা থেকে সম্পর্ক শুরু হয়ে ওঠা থেকে তৈরি হয় মায়ার বন্ধনের। স্কুলের প্রতি এক টান অনুভব করার মধ্যে জরিয়ে থাকে স্মৃতি । আমি যে কথায় আসব সেটা হচ্ছে এই পৃথিবীর সমগ্রই বন্ধন জেনেও আমরা সেটাকে ভাবি আমাদের নিজের। কিন্তু সত্যি হল আমাদের নিজের বলে এই ভবে কিছুই নেই। বাংলার মধুকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথায়ে, "চিরস্থির হায় রে কোথা জীবন নদে, জীবন যেন পদ্মপত্রে নীর"। এই স্থানে এসে আমরা সব কিছুর দেখা পাই। আবার এই খানেই সব পিছনে ফেলে রেখে যাই। মাঝখানের সময়টুকুতেই সব কিছু ঘটে যায়। শিল্পি, সাহিত্যিক থেকে বাউল, ফকির, মারফতি সাধক সকলে তাই এক কথাই বলে- কোন কিছুর থেকেই আশা রেখো না। কারন তুমি কিছুই দিতে পারবে না, কিছুই নিতেও পারবেনা। সবই মিথ্যে, মায়ার খেলা। এই ধারনার ভাব্বাদি ভীতের ওপর দাড়িয়ে। কার্ল মার্ক্স কিন্তু এই ভাবনাকে নস্যাৎ করবেন তার বস্তুবাদি চিন্তার যুক্তিতে। অ্যারিসটোটেল এর ধারনার থেকে কিছুটা নিয়ে এবং হেগেলের দ্বন্দ্বে ভর করে মার্ক্স তৈরি করেছেন তার যুক্তি- পৃথিবীতে সব কিছুই বস্তু কেন্দ্রিক, সমাজের প্রত্যকে সম্পর্ক তৈরি হয় বস্তু কেন্দ্রিক আদান প্রদানকে কেন্দ্র করে। Adam Smith তার division of labour থিয়োরিতে বলেছেন যে সমাজ স্থাপন হয়ে ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক আদান প্রদানের মধ্যে। ধরা যাক একজন রুটি বিক্রেতা, সে রুটি তৈরি করে নিজে খাবার জন্যে নয়। সে সেটা বাজারে বিক্রি করে কিছু আর্থিক লাভের জন্যে। যে অর্থ সে রোজকার করে, তা দিয়ে সে পরে এক মণ চাল কিনতে পারবে। এই ভাবে  expertise of trade  বা  skill based labour তৈরি করা যায়। এই বস্তু নির্ধারণ করে সমাজের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো। মার্ক্স তার 'পূজি'তে দেখিয়েছেন কিভাবে  এক শ্রেণির মানুষের হাতে সব অর্থ জমা হচ্ছে, একছত্র পূজির উদয় হছে, যা গ্রাস করছে সব খুদ্র, ছোট ও মাঝারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে। আমরা যদি এই ভাবে দেখি তাহলে বুঝতে পারব কিভাবে সুকৌশলে ধর্মযাজকরা, দার্শনিকরা এই শোষণের কথ এড়িয়ে গিয়েছে তাদের আলোচনার মধ্যে। আমি প্রথমে এই আলোচনা যে কথাটা দিয়ে শুরু করেছিলাম যে পৃথিবীর সবই মায়া, এটা কথাও গিয়ে বিলাসিতা মনে হয় আমাদের মত সম্ভ্রান্ত মানুষের কাছে যারা সব সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকি। সম্প্রতি Oxfam Report এ প্রকাশিত হয়েছে যে ভারতে ৭৩% পূজি জমা আছে মাত্র ১% মানুষের কাছে। বাকি ২৭% পাচ্ছে ৯৯% মানুষ। এই ভাবে চলতে হলে একদিন নিরন্ন এই মানুষরা যদি তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে চায়, তাহলে সেটাকে আমরা কি ভাবে মেনে নেব? হিংশা না মায়ার স্তোকবাক্যে? উত্তরটা জানতে গেলে অপেক্ষা করতেই হবে। 

Comments